Monday, 20 January 2014

এবার রাজাপুরে সংখ্যালঘু পরিবারের বসতবাড়ি দখল





সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে সারা দেশ যখন উত্তাল ঠিক তখনই ঝালকাঠির রাজাপুরে এক সংখ্যালঘু পরিবারের বসতভিটাসহ সর্বস্ব দখল করে নিয়েছে একটি প্রভাবশালী মহল। দখলে বাধা দেয়ার সময় জমির মালিক মৃত নিমাই চন্দ্র মিস্ত্রীর স্ত্রী অমিয় বালাকে গতকাল বেধড়ক পেটায় জমি দখলকারীরা।
অমিয় বালা বলেন, ‘১০০ বছরেরও আগ থেকে পূর্ব-পুরুষদের বসতভিটায় আমরা বসবাস করে আসছি। দুপুরে কবির ও শিপন নামে দুই ব্যক্তি জমি তাদের উল্লেখ করে বেশ কিছু লোকজন নিয়ে এসে আমাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। আমি বের হতে না চাইলে আমাকে কিল-ঘুষি ও লাথি দিতে দিতে ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেয়। পরে আমার বাড়ির জমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দখল করে নেয়। ওই জমিতে আমার স্বামীর শ্মশান পর্যন্ত রয়েছে।’
জমি দখলকারী কবির হোসেন বলেন, ‘আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে ওই জমি লিজ নিয়েছি। তাই আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে একজন সার্ভেয়ার নিয়ে দখল নিতে এসেছি।’
তবে কবির হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্যের সপক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন।
অমিয় বালার ছেলে অনিমেষ মিস্ত্রী বলেন, আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি সরকার ভুলক্রমে অ্যানিমি প্রপার্টিতে লিপিবদ্ধ করেছে, যা নিয়ে ঝালকাঠি আদালতে সরকারের সাথে আমাদের মামলা চলছে। কিন্তু মামলার কার্যক্রম বহাল থাকা সত্তেও ইউএনও কিভাবে এই জমি লিজ দেন তা আমাদের জানা নেই। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরো বলেন, এই জমিই আমাদের শেষ সম্বল। তা দখল হয়ে গেলে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবা আক্তার বলেন, ‘ওই জমির মালিক কারা তা আমার জানা নেই। এটি সরকারি জমি বিধায় এক পক্ষকে লিজ দেয়া হয়েছে। এর বেশি আমি বলতে পারব না।’
এ ব্যাপারে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলেছি। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঝালকাঠি জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা দুলাল সাহাসহ উপজেলার নেতারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবা আক্তারের প্রত্যাহারের দাবি জানান।
নাজিরপুরে মন্দিরে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড
পিরোজপুর সংবাদদাতা জানায়, পিরোজপুরের নাজিরপুরে মন্দিরে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, গত রোববার রাতে উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের পরিতোষ দাশের বাড়ির মন্দিরে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে মন্দিরের ভেতর থাকা জ্বালানিকাঠ ও ঘরের বেড়ার এক অংশ পুড়ে যায়। এ ব্যাপারে ওই বাড়ির মালিক পরিতোষ দাশ জানান, তিনি সকালে উঠে মন্দিরের ওই অবস্থা দেখে স্থানীয়দের জানান। এ ব্যাপারে গতকাল সোমবার সকালে জেলা পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার এস এম আক্তারুজ্জামান জানান, মন্দিরের ভেতর থাকা জ্বালানি কাঠ পুড়ে গেলেও সম্পূর্ণ ঘরটি না পুড়ে বেড়ার একটি অংশ পুড়ে স্বাভাবিকভাবে আগুন নিভে যাওয়াসহ প্রতীমার গায়ে থাকা শাড়ি বা এর কোনো অংশ পুড়ে না যাওয়া বা কোনো ক্ষতি না হওয়াসহ পুরো বিষয়টা দেখে বেশ রহস্যজনক মনে হলো।
তিনি জানান, বিষয়টি আমাদের (পুলিশ) দারুণভাবে ভাবিয়ে তুলছে।

No comments:

Post a Comment