Sunday, 3 November 2013

আওয়ামী লীগের মনোবল ভেঙে গেছে



বক্তৃতা, মিছিল, মিটিং ও সমাবেশে হাঁকডাক ছাড়লেও মনোবল ভেঙে গেছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের। তারা অনেকটা আঁচ করতে পেরেছেন অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বিপুল ব্যবধানে হারবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

তবে দলটির কিছু নেতাকর্মীর মধ্যে এই বিশ্বাস রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবেই হোক ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন পরিচালনা করবেন এবং এতে আবারো আওয়ামী লীগই সরকার গঠন করবে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী ফোরাম গত ২ নভেম্বর একটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত জনমত জরিপের ফলাফলে হতাশ হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা নির্ধারণে সেপ্টেম্বরে জনমত জরিপ পরিচালনা করেছে যৌথভাবে এশিয়া ফাউন্ডেশন এবং ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার।

জরিপে দেখা যায়, এখন যদি নির্বাচন হয় তাহলে আওয়ামী লীগ ২৮ শতাংশ এবং বিএনপি পাবে ৫৫ শতাংশ ভোট। অন্যরা পাবে পাঁচ শতাংশ ভোট। আর ১২ শতাংশ ভোটার কোনো মতামত দেননি।

দেশের নির্ধারিত কয়েকটি অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীর শ্রেণীভিত্তিক জরিপেও দেখা গেছে পল্লী অঞ্চল, শহরাঞ্চল, পুরুষ, মহিলা এবং যুব সমাজেও আওয়ামী লীগের ভোট কমেছে। এই পাঁচটি ক্যাটাগরিতে আওয়ামী লীগ পাবে গড়ে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট এবং বিএনপি পাবে গড়ে ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

এছাড়া সর্বশেষ অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফলের পর মনোবল ভেঙেপড়া আওয়ামী শিবিরে আবারো নতুন করে হতাশার জন্ম দিয়েছে খবরের কাগজে প্রকাশিত জনমত জরিপের ফলাফল।

এদিকে বিএনপিকে মিত্রশূন্য করতে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে আওয়ামী লীগ। এরই অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য শত্রু হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে গোপনে সমঝোতার একাধিক চেষ্টা চালানো হয়েছে। এতে জামায়াত সাড়া দেয়নি বলে জানা গেছে। তাছাড়া মহাজোটে থাকা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ওপরও আস্থা রাখতে পারছেন না আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা।

অন্যদিকে জনবিচ্ছিন্ন বামদলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে গেলে তাতে যে কোনো লাভ হবে না; তা প্রায় নিশ্চিত ক্ষমতাসীন দলটি। দলের নির্বাচন পরিচালনাকারী কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পর ইতিবাচক কোনো দিক দেখছেন না আওয়ামী লীগ।

নির্বাচন ও দলীয় সংকটকালীন সময়ে রাজনৈতিক মাঠ ধরে রাখে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগের এই দুই অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে হতাশা বেড়েছে অতিরিক্ত মাত্রায়।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের বর্তমান কমিটির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য একান্ত আলাপচারিতায় বলেছেন, আওয়ামী লীগের জন্য সামনের দিনগুলো খুবই ভয়াবহ। দেশের পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে কেউ বলতে পারে না। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জানেন না কী হবে?

তিনি বলেন, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের চাইতে বর্তমান মহাজোট সরকারের সময়ে দেশের প্রায় সব সেক্টরে উন্নয়ন-অগ্রগতি বেশি হলেও কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারের সব ভালো কাজগুলো আড়াল হয়ে গেছে।

হতাশা ব্যক্ত করে যুবলীগের ওই প্রেসিয়াম সদস্য বলেন, আমরা এখন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি। দেশের মানুষের মনোভাব বুঝার চেষ্টা করছি। অবস্থা অনুকূলে না থাকলে বাকি জীবন তাবলীগ জামাতে কাটিয়ে দেওয়ার চিন্তা করছেন আওয়ামী যুবলীগের এই কেন্দ্রীয় নেতা।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অনেক নেতাই এখন দলীয় কার্যালয়ে অনিয়মিত। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের উপস্থিতি শতকরা ৭৫ ভাগ কমেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এখন ছাত্রলীগের কাছ থেকে দূরে থাকছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে অজানা হতাশা কাজ করছে। আন্দোলন-সংগ্রাম ও দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকছেন অধিকাংশ নেতাকর্মী।

বিভিন্ন কমিটির তালিকায় থাকা নেতাদের মধ্যে বেশিরভাগই নিষ্ক্রিয়। সেক্ষেত্রে আগামী দিনে বিরোধী দলের আন্দোলন সংগ্রাম মোকাবিলা করতে ছাত্রলীগের ওপর ভরসা করতে পারছে না আওয়ামী লীগ।

এছাড়া শীর্ষ নিউজ ডটকমের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জনমত জরিপের ফলাফল নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

No comments:

Post a Comment